পোস্টগুলি

পসিদনিসের রহস্যময় সমুদ্রদ্বীপ (Poseidonis Mystery Island)

পসিদনিসের রহস্যময় সমুদ্রদ্বীপ (Poseidonis Mystery Island) পসিদনিস (Poseidonis) হল একটি রহস্যময় দ্বীপ, যা প্রাচীন গ্রিক ও আধুনিক সাহিত্য ও কল্পকাহিনীতে উল্লেখিত হয়েছে। এটি মূলত অ্যাটলান্টিসের শেষ অবশিষ্ট অংশ বলে ধরা হয়, যা সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে গেছে। পসিদনিস-এর উৎস ও ইতিহাস 1. গ্রিক পুরাণের সংযোগ: "পসিদনিস" নামটি এসেছে গ্রিক সমুদ্রদেবতা পসেইডনের (Poseidon) নাম থেকে, যিনি অ্যাটলান্টিসের শাসক হিসেবে বিবেচিত হন। প্রাচীন লেখক প্লেটো (Plato) তার "Timaeus" ও "Critias" গ্রন্থে অ্যাটলান্টিসের কথা বলেছিলেন, যা পরে পসিদনিস-এর ধারণার সাথে যুক্ত হয়েছে। 2. আধুনিক সাহিত্য ও কল্পনা: ১৮৭৪ সালে Edward Bulwer-Lytton তার "The Coming Race" উপন্যাসে পসিদনিস নাম উল্লেখ করেন। বিখ্যাত লেখক H.P. Lovecraft তার কল্পবিজ্ঞান ও রহস্যধর্মী গল্পগুলোতে পসিদনিস-কে একটি অতিপ্রাকৃত ও লুপ্ত সভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। Clark Ashton Smith-ও পসিদনিস-কে নিয়ে লেখা করেছেন, যেখানে এটি অ্যাটলান্টিসের শেষ দ্বীপ হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। পসিদনিস-এর রহস্যময়তা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক গবে...

চোরাবালি (Sinkholes) – গুয়াতেমালা ও চীন

ছবি
চোরাবালি (Sinkholes) – গুয়াতেমালা ও চীন Photo by : Simon Burchell                      (Wikipedia)  চোরাবালি (Sinkhole) হল এক ধরনের ভূগর্ভস্থ গর্ত, যা তখন সৃষ্টি হয় যখন মাটি ধসে পড়ে এবং নিচে থাকা শূন্যস্থান প্রকাশ পায়। এটি সাধারণত ভূগর্ভস্থ পানি দ্বারা চুনাপাথর, ডলোমাইট বা অন্যান্য দ্রবণীয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার কারণে গঠিত হয়। গুয়াতেমালার চোরাবালি (Guatemala Sinkhole) ২০১০ সালে গুয়াতেমালার রাজধানী গুয়াতেমালা সিটি-তে হঠাৎ করে একটি বিশাল চোরাবালি তৈরি হয়, যার ব্যাস ছিল প্রায় ২০ মিটার (৬৫ ফুট) এবং গভীরতা প্রায় ৩০ মিটার (১০০ ফুট)। এটি সম্পূর্ণ একটি তিনতলা ভবনকে গিলে ফেলে। মূল কারণ ছিল অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটি। ২০০৭ সালেও একই ধরনের একটি চোরাবালি সেখানে সৃষ্টি হয়েছিল। চীনের চোরাবালি (China Sinkholes) চীনে বিশ্বের কিছু সবচেয়ে বড় এবং গভীর চোরাবালি পাওয়া যায়, যা স্থানীয়ভাবে "Tian Keng" বা "স্বর্গের গর্ত" নামে পরিচিত। ২০২২ সালে চীনের গুয়াংজি (Guangxi) অঞ্চলে এক বিশাল ৩০৬ মিটার (১০০৪ ফ...

ব্লাড ফলস (Blood Falls), অ্যান্টার্কটিকা

ছবি
ব্লাড ফলস (Blood Falls), অ্যান্টার্কটিকা Photo by  : (National Science Foundation/Peter Rejcek) Wikipedia  ব্লাড ফলস হল অ্যান্টার্কটিকার টেলর গ্লেসিয়ার (Taylor Glacier) থেকে প্রবাহিত এক রহস্যময় লালচে জলপ্রপাত। এটি মূলত ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালির অংশ, যেখানে বরফের মধ্যে দিয়ে গাঢ় লাল রঙের পানি বেরিয়ে আসে, যা দেখতে রক্তের মতো মনে হয়। কেন একে ব্লাড ফলস বলা হয়? প্রথম দর্শনে এটি মনে হয় যেন বরফের মাঝে থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, তাই একে "ব্লাড ফলস" বলা হয়। তবে এর লাল রঙের আসল কারণ হলো— বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা: প্রায় ২০ লাখ বছর ধরে সংরক্ষিত লবণাক্ত সাবগ্লেশিয়াল লেকের (subglacial lake) পানি এতে প্রবাহিত হয়। এই পানিতে আয়রন (লোহা) সমৃদ্ধ খনিজ পদার্থ বিদ্যমান, যা অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে জংয়ের মতো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং পানিকে লালচে রঙ দেয়। এটি অক্সিজেনবিহীন (anaerobic) পরিবেশে সংরক্ষিত ছিল, যেখানে বিশেষ ধরণের মাইক্রোবের (Microbes) সন্ধান পাওয়া গেছে, যা জীবনের কঠিনতম পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। বৈশিষ্ট্য: এটি পৃথিবীর অন্যতম সবচেয়ে চরম পরিবেশে বিদ্যমান তরল জলধারা, কারণ অ্যান্টা...

নাজকা লাইনস (Nazca Lines), পেরু

ছবি
 নাজকা লাইনস (Nazca Lines), পেরু Photo by : (Diego Delso) Wikipedia) License : CC BY-SA 4.0 নাজকা লাইনস হল প্রাচীন ভৌগোলিক রেখাচিত্র, যা পেরুর নাজকা মরুভূমিতে অবস্থিত। এই লাইনসমূহ খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টীয় ৫০০ সালের মধ্যে নাজকা সভ্যতার মানুষদের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ বৈশিষ্ট্য: এটি মূলত বিশাল আকৃতির জিওগ্লিফ (ভূ-চিত্র), যা ভূমিতে বিশাল নকশা বা ছবি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন নকশার মধ্যে রয়েছে জ্যামিতিক চিত্র, সরল রেখা, স্পাইরাল, ত্রিভুজ, ট্রাপিজিয়াম, এবং বিভিন্ন প্রাণীর (যেমন বানর, কুকুর, কন্ডর, হামিংবার্ড, মাকড়সা) আকৃতি। কিছু রেখা ৩০০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ এবং পুরো এলাকাটি ৫০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। তৈরি করার পদ্ধতি: এগুলো তৈরি করার জন্য মাটির উপরিভাগের লালচে পাথর সরিয়ে নিচের ফ্যাকাশে রঙের মাটি প্রকাশ করা হয়েছে। মরুভূমির শুষ্ক জলবায়ুর কারণে এই চিত্রগুলো হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে। উদ্দেশ্য ও রহস্য: এই লাইনগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কিছু গবেষক মনে করেন, এগুলো ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক কারণে তৈরি হয়েছিল...

Download Academic Gyan App

 Academic Gyan App  Contents : Science, Sports, Geography, English Grammar.  Download  

ডেভিলস সি (Devil’s Sea), জাপান: রহস্য, তথ্য ও কুইজ

ছবি
ডেভিলস সি (Devil’s Sea), জাপান: রহস্য, তথ্য ও কুইজ  Photo created by ChatGPT  পরিচয় : ডেভিলস সি, যা প্যাসিফিক মহাসাগরে জাপানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত, এটি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের মতোই রহস্যময় একটি অঞ্চল। এটিকে ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল (Dragon’s Triangle) নামেও ডাকা হয়। বহু বছর ধরে এখানে জাহাজ ও বিমান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে, যা বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অবাক করেছে। --- রহস্য ও কল্পকাহিনি: 1. জাহাজ ও বিমানের অদৃশ্য হওয়া – বহু জাহাজ ও বিমান কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই এই এলাকায় হারিয়ে গেছে। 2. জলজ প্রাণী ও অজানা শক্তির প্রভাব – স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে, ড্রাগনের মতো বিশাল জলজ প্রাণী এখানে বাস করে। 3. ম্যাগনেটিক অস্বাভাবিকতা – কম্পাসের দিক পরিবর্তন হয়ে যায় এবং যন্ত্রপাতি ঠিকমতো কাজ করে না। 4. সমুদ্রের নিচে আগ্নেয়গিরি – বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সমুদ্রের নিচে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ভূমিকম্প এসব ঘটনার কারণ হতে পারে। 5. UFO ও এলিয়েন তত্ত্ব – অনেকে দাবি করেন, এখানে UFO-র উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা নিখোঁজের কারণ হতে পারে। --- জানার মতো কিছু তথ্য (GK Facts): ✅ ডেভিলস সি পশ্চি...

Gyan Rahashya App

ছবি
 Download Now.  ডাউনলোড করুন